ডেট্রয়েট, ওয়ারেন, হ্যামট্রাম্যাক ১৮ অক্টোবর : শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বইছে উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আবেশ, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্দির। দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল ও মিশিগান কালীবাড়িতে ভক্তদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পূজা-অর্চনা ও অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে ভক্তিময় পরিবেশে উদ্যাপিত হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
মহাষ্টমীর সকালে পূজা-অর্চনা শেষে ভক্তরা দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে প্রথম দফায় প্রায় ৩০০ ভক্ত অঞ্জলি প্রদান করেন। এ সময় অঞ্জলি দেওয়ার অপেক্ষায় মন্দিরের বাইরে অপেক্ষমাণ ছিলেন আরও শতাধিক ভক্ত। ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
একই চিত্র দেখা গেছে মিশিগান কালীবাড়িতেও। সেখানে ভক্তদের উপস্থিতিতে এমন ভিড় ছিল যে, হলরুমে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। অঞ্জলি প্রদান ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে অসংখ্য ভক্তকে হলরুমে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দুই মন্দিরেই ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে মন্দির দুটি যেন পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি স্বজন, পরিচিতজন ও কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন প্রবাসী বাঙালিরা।
এদিকে, রাধাকৃষ্ণ টেম্পলেও ভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ১০৮ জন এবং আজীবন সদস্য রয়েছেন আরও সাতজন। প্রবাসী ভক্তদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ মন্দিরটি মিশিগানের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় চর্চা ও মিলনকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, শিব মন্দিরে সপ্তমী ও মহাষ্টমীর পূজা এবং অঞ্জলি প্রদান পর্বে তুলনামূলকভাবে ভক্তদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে মিশিগানজুড়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রবাসে শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্প্রীতিরও এক অনন্য উপলক্ষ। মিশিগানের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি প্রদান ও ভক্তদের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে সেই ঐতিহ্য ও ভক্তির আবহ আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :